জীবন হুমকির মুখে মইনুল ইসলাম চৌধুরী
জুলাই আন্দোলনের পর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে সাবেক যুবলীগ নেতা

সিলেট প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী পরিস্থিতির পর সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মইনুল ইসলাম চৌধুরী চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তার সিলেট নগরীর উত্তর বাগবাড়ি এলাকার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে তার ওপর একাধিকবার হামলার চেষ্টা বা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পিতার নাম সাফিক মিয়া চৌধুরী। তার পারিবারিক বাসভবন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৩১২/৪, সুলতান মঞ্জিল, উত্তর বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, সিলেট ঠিকানাটি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতির অবনতি
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব সিলেটেও পড়ে।
মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে যে, সরকার পতনের পর তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব হামলার ঘটনায় কোনো মামলা, তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
একাধিক হামলার অভিযোগ, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, শুধু বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর নয়, মইনুল ইসলাম চৌধুরী নিজেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন অথবা তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা এড়িয়ে চলছেন বলে জানা গেছে।
তার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিলেটে প্রকাশ্যে তার চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে ‘বাংলাদেশে তাকে দেখা গেলেই তার মৃত্যু অনিবার্য’—এ ধরনের আশঙ্কা তার ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্য বা অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত; এটিকে নিশ্চিত বা প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বলা যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি, মামলা বা হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য
প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট মহানগর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নাম সহ-সম্পাদক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদনেও মহানগর যুবলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমে তার নাম উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সিলেট মহানগর যুবলীগের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনে মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নামও সংগঠনের নেতাদের তালিকায় রয়েছে।
তবে মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ‘খুবই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্র এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়নি। ফলে এ দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না লিখে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বা অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি
মইনুল ইসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তির বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। তারা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।
তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে তার ওপর আরও গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না এবং তার বাসভবনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো অভিযোগ বা মামলা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সর্বোপরি, মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।



