শেফালি জরিওয়ালা উনিশে রাতারাতি তারকা, ৪২-এ বিদায়

মাত্র ১৯ বছর বয়সে একটি মিউজিক ভিডিও দিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার কোটি মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলেছিলেন শেফালি জরিওয়ালা। ক্যামেরার সামনে ঝলমলে সেই চোখ, স্বতঃস্ফূর্ত নাচ আর প্রাণভরা হাসি—যা তাকে রাতারাতি পরিণত করেছিল ‘কাঁটা লাগা গার্ল’-এ। কিন্তু কে জানতো, মাত্র ৪২ বছর বয়সেই জীবনের মঞ্চ থেকে বিদায় নেবেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ জুন) গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শেফালি। মৃত্যুকালে পাশে ছিলেন তার প্রিয় স্বামী, অভিনেতা পরাগ ত্যাগী।
২০০২ সাল। ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে তখন নতুন করে ঝড় তুলছে রিমিক্স কালচার। সেই সময়ে ‘কাঁটা লাগা’ গানটি যেন এক বিস্ফোরণ। টেলিভিশনের পর্দায় হাস্যোজ্জ্বল, আত্মবিশ্বাসী এক তরুণী। সাদা-নীল পোশাকে দাপুটে নাচ। কে ভেবেছিল, মাত্র ৭ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে করা সেই ভিডিও একদিন তাকে ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ার কাল্ট আইকনে পরিণত করবে।
তারকাখ্যাতি এলেও সহজ ছিল না শেফালির জীবন। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে একাধিকবার ক্যামেরার আলো থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। বড় প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়েছে অসংখ্য। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। মিউজিক ভিডিও, সিনেমা, রিয়েলিটি শো, ব্র্যান্ড প্রোমোশন—সবখানেই নিজের সাধ্যমতো লড়াই করে গেছেন।
২০২৪ সালের একটি পডকাস্টে জ্যোতিষী পরেশ ছাবড়া তার জন্মছক দেখে বলেছিলেন—‘চন্দ্র ও কেতু অষ্টম ঘরে, সঙ্গে বুধ। এই অবস্থান আকস্মিক মৃত্যু বা বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়।’ শেফালি তখন কিছু বলেননি। কেবল মৃদু হেসেছিলেন। অথচ তার মৃত্যু যেন সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে দিয়ে গেল।
মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে শেফালি এক্স-হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার সঙ্গে। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘তোমাকে খুব মনে পড়ছে…’। একইভাবে সিদ্ধার্থও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।
লাল ওড়নায় ঢাকা শেফালির নিথর দেহ। পাশে অশ্রুসিক্ত মা। স্বামী পরাগ ত্যাগী স্ত্রীর কপালে শেষবারের মতো চুমু আঁকছেন। চারপাশের কান্না যেন বাতাসকেও ভারী করে তুলেছে। একজন প্রাণোচ্ছ্বল মানুষের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় কেউ মেনে নিতে পারছে না।
প্রাথমিক রিপোর্টে ‘সন্দেহজনক’ কিছু পাওয়া যায়নি। তবে চলছে আরও তদন্ত। শোনা যাচ্ছে, অ্যান্টি এজিং চিকিৎসার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ইঞ্জেকশন নিচ্ছিলেন তিনি। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
সত্যিই, চলে গেলেন ‘কাঁটা লাগা গার্ল’। তবে তার নাচের তালে যে ঝড় উঠেছিল, তা কখনোই থামবে না। শেফালি নেই, কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন কোটি মানুষের স্মৃতিতে। হয়তো আগামী শতাব্দীতেও যখন কেউ শুনবে—“কাঁটা লাগা… লাগা… লাগা…”— তখন পর্দায় ভেসে উঠবে সেই সাদা-নীল পোশাকের প্রাণবন্ত মেয়েটির মুখ।